বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
![]() |
| সৈয়দ জিন আরিফ |
পোস্টটির প্রকাশ কালঃ ৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রি.
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আমি আরিফ উল্যাহ চৌধূরী, পিতাঃ মরহুম ডাঃ ছিদ্দিক আহাম্মদ, ডাঃ ছিদ্দিক আহাম্মদের বাড়ী, গ্রামঃ গোবিন্দপুর, পোঃ হাজীর বাজার, উপজেলাঃ ফেনী সদর, জেলাঃ ফেনী, বাংলাদেশ।
আপনারা জানেন আমাদের বদ্ধমূল ধারনা অনুযায়ী, আমার শরীরে জিন জাতির এক জন মহিলা সদস্য তার সমস্ত দল-বল নিয়ে, আজ প্রায় ২৬ বছর ধরে আসর করে আছে! তারা দুনিয়ার জমিনে প্রত্যক্ষ ও প্রকাশ্য ভাবে মানবরূপে ও তাদের অন্যান্য রূপ বা অবয়বে দৃশ্যমান বা উদ্ভব হতে চাচ্ছে!
আমার শরীরে তাদের সরব ও স্পষ্ট অনুভূতিশীল উপস্থিতি আমার জন্মস্থান ফেনী সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের এবং পাশ্ববর্তী গ্রাম উত্তর চাঁদপুর গ্রামের প্রায় অনেকগুলো মানুষের এবং আমার আত্মীয়, প্রতিবেশি এবং পরিচিতজনদের প্রায় সকলেরই জানা!
ইতিপূর্বে আমার আপনজনেরা তাদেরকে তাড়ানোর জন্য বহু চেষ্টা তদবীর করেও ব্যর্থ হয়েছে! এবং এরই প্রতিফল ও ধারাবাহিকতায় আমি আজ একেবারেই অসহায়, অর্থহীন ও ঋণী হয়ে গিয়েছি এবং এক চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছি!
আমার শরীরে থাকা এ জিন বা জিনদের পক্ষ থেকে আমার ব্রেনে যে সিগনাল আসে, এতে বুঝা যায়, তারা আমার মাধ্যমে এ দুনিয়ায় তাদের সৃষ্টিগত যে বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ তাদের আখলাক, শরীরীক-মানসিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন অবস্থা, শক্তি, সামর্থ, অর্থ, রূপ-সৌন্দর্য ইত্যাদি দুনিয়ার মানুষের মাঝে প্রত্যক্ষ ভাবে আম জনতার নিকট ওপেন প্রকাশ করবে!
এবং এর মূল কারণ হচ্ছে, তারা মহান রবের সৃষ্টিকে মানুষের মাঝে প্রদর্শন করে, তার সৃষ্টিতত্ত্ব বা তার সৃষ্টিগত পরিচয় প্রদান করে, একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহু তা’য়ালার দিকে মানুষদেরকে আহবান করবে এবং বর্তমান জ্ঞান-বিজ্ঞানের তথ্য ভূল প্রমাণ করে তারা পৃথিবীর সকল মানুষকে এই বুঝাতে বাধ্য করবে যে, আল কোরআন সত্য বলেছে, মহান আল্লাহু তা’য়ালা সত্য বলেছেন, বরং যুগ যুগ ধরে চলা মানুষদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের তথ্যই ভূল এবং অবশ্যই এগুলো সংশোধন আবশ্যক!
এরই পরিপ্রেক্ষিতে মানুষদেরকে জানানোর উদ্দেশ্যে জনাব আরিফ সাহেবের তার জিনদের প্রতি জানার বিষয় হচ্ছে, তার সাথে থাকা জিন কেন আসতে পারছে না, বা সত্যিই সে মানবরূপে দৃশ্যমান হয়ে আসবে কিনা?
১। প্রশ্নকারীর পরিচয়ঃ জনাব আরিফ সাহেব নিজেই মানুষের জ্ঞাতার্থে তার শরীরে থাকা জিন বা জিনদের প্রতি করেছেন।
২। প্রশ্নঃ আমার ধারনা অনুযায়ী, আমার শরীরে থাকা মহিলা জিন হিসেবে আপনি বা আপনারা আমার নিজ ব্রেনে সিগনাল পাঠিয়ে বুঝাচ্ছেন এবং অন্যান্য মানুষদেরকেও বিভিন্ন আকার-ইঙ্গিত প্রদানের মাধ্যমে বা ভাব-ভঙ্গিমার মাধ্যমে বুঝাচ্ছেন বা বুঝিয়ে চলেছেন যে, আমার নিকট আপনারা মানবরূপে ও আপনাদের অন্যান্য রূপে দৃশ্যমান হবেন এবং আপনাদের উপরে উল্লেখিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করবেন।
এতে আমিও অত্যন্ত খুশি ছিলাম! কিন্ত দিনকে দিন পার হয়ে যাচ্ছে, অথচ আপনারা আসছেন না! আপনাদের আসার ক্ষেত্রে কোন ধরনের সমস্যা ফীল করছেন কী, যার জন্য আপনারা আসতে পারছেন না!? এবং আমাকে কী করলে বা কী উদ্যোগ গ্রহণ করলে আপনারা সহজে আসতে পারবেন বলে মনে করছেন!? বা আপনারা কবে নাগাদ আসবেন? অথবা আপনারা আসলেই আসবেন কিনা? দয়া করে তা একটু বুঝিয়ে বললে, এটি আমার ও আমাদের জন্য অনেক অনেক ভালো হতো! যেহেতু আপনারা আসুন ও উপরে উল্লেখিত আপনাদের উদ্দেশ্য সাধন করুন, এটা আমি ও অন্যান্য মানুষেরা (যদিও মানুষেরা বিষয়টি বুঝতেছেনা) মনে প্রাণে চাচ্ছি!
৩। জিনের পক্ষ থেকে উপরোক্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদানঃ
[প্রথমেই বলে রাখি, এ উত্তরটি জিন তার নিজস্ব অবয়বে বা মানব আকৃতিতে আলাদা ভাবে এসে প্রদান করছেন না! বরং আমায় আসর করা অবস্থাতেই, আমার ব্রেনের মাধ্যমেই প্রদান করছেন। তাই আল্লাহর অশেষ রহমতে জিন যদি প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হন, এবং তখন তিনি যদি মনে করেন যে, এ উত্তরের মধ্যে কিছু সংশোধন প্রয়োজন, তখন তিনি তা সংশোধন করতে পারবেন! কারণ আসর করা অবস্থায় মানুষের ব্রেন দ্বারা জিনের ব্রেনকে বা জিনের বৈশিষ্ট্যকে পুরোপুরি কেচ করা বা বুঝা, এটি হয়তো সম্ভব নাও হতে পারে!]
দেখুন আমার নেতৃত্বে, আমরা আপনাকে আসর করেছি সেই ২০০১ ইং সনে। আমরা আপনাকে অর্থনৈতিক ভাবে একেবারে মিসকিন বানিয়ে দিয়েছি ও মানুষের কাছে একেবারে অসহায় করে দিয়েছি, তা ঠিক আছে! কিন্তু আমরা আপনাকে আল্লাহু তা’য়ালার পথ থেকে ফিরাইনি, বরং আরো স্ট্রং করেছি এবং আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না যে, দিন দিন আপনার শারীরিক, মানসিক ভাবে উন্নতি হচ্ছে! আপনি স্বাভাবিক হচ্ছেন!
আপনি পরিবার চালাচ্ছেন, আপনি চাকুরী করছেন, আপনি আপনার এ দন্য দশার মাঝেও ঘুমোতে পারছেন; আপনার অবস্থা অনুযায়ী, সমাজের মানুষের মাঝে মোটামুটি কিছুটা হলেও সম্মানের সহিত বেঁচে আছেন!
আপনার এখন শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থা যা, এতে মানুষ হিসেবে আপনার স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকারই কথা না!
এ কথা আপনাকে স্বীকার করতেই হবে যে, আমরাই আপনাকে সীমার বাহিরে কষ্ট দিয়েছি এবং দিয়ে যাচ্ছি; কিন্তু অপর দিকে আপনাকে বাঁচিয়ে রাখতে সহযোগিতা করেছি সেই আমরাই! হাসপাতালের আইসিইউ এর মতো, আপনার লাইফ সাপোর্ট সেই আমরাই দিচ্ছি! না হয় এটা স্বাভাবিক নয় যে, আপনার এ অবস্থায় মানুষ হিসেবে আপনি, সুস্থ ভাবে বেঁচে থেকে দৈনন্দিন কাজ-কর্ম চালিয়ে যেতে পারেন!!
গত প্রায় ২৬ বছর আমরা আপনার সাথে রয়েছি! প্রকৃত ভাবেই আমাদের যদি কোন অসৎ উদ্দেশ্য থাকতো বা আমরা যদি ইবলিশ জিন হতাম, তবে আপনি নিশ্চয়ই আমাদের শক্তির কাছে, মানুষের মতো আল্লাহ ওয়ালা হিসেবে কিছুতেই থাকতে পারতেন না! আমাদের এ জিন জাতের বিষয়ে এতো দিনে অবশ্যই আপনার কিছুটা হলেও জ্ঞান হয়েছে! অন্যদিকে আমাদেরকে তাড়ানোর বিষয়ে, আপনাদের এতো চেষ্টা-তদবীরের মাঝে, আমরাও হয়তো এতো দিন আপনার শরীরে থাকতে পারতাম না! তার মানে মহান রবই হয়তো একভাবে না একভাবে আমাকে বা আমাদেরকে আপনার শীরেরে থাকতে দিতেন না! যেমন দেখুন না, আপনার মতো এ কেটাগরীর মানুষ, মানে জিনেও আসর করেছে, আবার বুদ্ধিমানের মতো তার দুনিয়াবী হাজত সমূহও পূরণ করছে এবং যে বিষয়ে অন্যান্য মানুষদের চাইতে রয়েছে এগিয়ে ও অন্যান্য মানুষকেও কিছু না কিছু সেবা দিয়ে যাচ্ছে; এ মহাবিশ্বে একজনও নাই! থাকলে আপনি বা আপনারা দেখান!?
আপনার এ বিষয়টি সারাবিশ্বে একেবারেই আন কমন! সুতরাং সবকিছু এনালাইসিস করলে আপনার কি মনে হয় না, মূলত আপনাকে নিয়ে আমাদের কোন অসৎ উদ্দেশ্য নেই! এবং রয়েছে কিছু না কিছু অনেক অনেক ভালো প্ল্যান! যা হয়তো পুরোপুরি আপনার বা অন্যান্য মানুষদের বুঝে আসছে না!
আবার আমরা যেহেতু আল্লাহু তা’য়ালাকে ভয় পাই, তাঁকে মেনে চলি, তাই তাঁর সম্মুখে এবং তাঁর রহমতে আমরা মিথ্যা বলতে পারি না!
যেহেতু আপনি কখনো মিথ্যা বলেছেন বা মিথ্যা স্বাক্ষী দিয়েছেন, বা জামাতে নামাজ ছেড়েছেন, বা কারো উপর জুলুম করেছেন বা অপ্রয়োজনীয় চাপাবাজি করেছেন; আপনার বিরুদ্ধে এ ধরনের বিষয় গুলো কেউ প্রমাণ করতে পারবে বলে মনে হয় না!
আপনার এ অবস্থাও আপনার মাঝে এ সৎ গুণ গুলো কে জারী রেখেছে বলতে পারেন!? তাহলে এটা সুস্পষ্ট যে, এটা আপনার শরীরে আমাদের উপস্থিতির কারণে হয়েছে! অতএব, আপনি বা আপনারা বিশ্বাস করুন যে, আমরা মুসলমান! আমরা আসলে আল্লাহু তা’য়ালাকে ভয় পাই! তাঁকে মেনে চলি!
আমরা আপনাকে বার বার, আপনার ব্রেনে সিগনাল পাঠাচ্ছি যে, আমরা ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা মানব আকৃতিতে এবং আমাদের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এ পৃথিবীতে আপনার মাধ্যমে দৃশ্যমান হবো বা আগত হবো! বা ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা হতে পারবো! আপনাকে বার বার বলেছি আপনি ধৈর্য ধরুন! আপনি আপনার নিয়ত, জ্ঞান, ত্যাগ ও প্রসেস অনুযায়ী এগিয়ে যান!
যেহেতু আপনাকে ভালো করে মনে রাখতে হবে যে, যে বা যারা নিজের উন্নতির জন্য নিজে সচেষ্ট হয় না, সে কখনো উন্নতি করতে পারে না! এ বিষয়টি পবিত্র কোরআনেই উল্লেখ রয়েছে!
এখন কথা হচ্ছে, আপনি আমাদেরকে পাওয়ার জন্য বা আমাদেরকে প্রত্যক্ষ ভাবে আপনার পাশে নিয়ে আসতে বা দৃশ্যমান করতে, আপনাকে কী করতে হবে! বা কী আমল করলে আপনি বা আপনার এলাকায় আমাদেরকে দৃশ্যমান ভাবে পাওয়া যাবে!?
এখানে আরেকটি শতভাগ সত্য কথা হলো, যে বা যারা বা যে এলাকার মানুষগুলো; যাকে বা যাদেরকে নিয়ে আসার জন্য, সম্মান ও নিরাপত্তা দিতে পারে না অথবা বৈধ কোন আইনগত অধিকার দিতে পারে না; সেই এলাকায় বা তার কাছে বা ঐ মানুষ গুলোর কাছে, গুণীজন কেন, কোন সাধারণ কেহও যেতে পারে না! যাওয়ার কোন বৈধতা বা কোন নিরাপত্তা বা কোন যুক্তি পায় না! বা এ ধরনের প্লেসে শান্তিতে যেতে পারে না! বা গিয়েও কোন কাজ হয় না!
চিন্তা করুন, আলহামদুলিল্লাহ! আমি ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাতের সহিত পড়ি! আমি মিথ্যা কথা বলি বা মিথ্যা স্বাক্ষ্য দিই, আল্লাহু তা’য়ালার রহমতে এ কথার প্রমাণ আপনার এলাকার কেউ আপনার বিষয়ে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারবেনা ইনশ’আল্লাহু তা’য়ালা! আল্লাহু তা’য়ালার রহমতে আমার কোরআন তিলাওয়াত সহীহ্! আমি মাসআলা-মাসায়িল মোটামুটি অনেক ভালো জানি; এরপরও আপনার এলাকার মানুষগুলো আমার কাছ থেকে ফাতিহা সূরাটিও শুনতে রাজি না এখন! আগে যখন আমরা এভাবে আসরকৃত ভাবে প্রকাশ্য হইনি, তখন আপনার এলাকার মসজিদে আমি হুজুরের অবর্তমানে ইমামতি, মুয়াজ্জিনি, তালিম সবই করে ছিলাম! কিন্তু এখন!? মসজিদে আমি একামত দিবো এ আশংকায় আমাকে দেখিয়ে আরেকজন মোটা হয়ে এসে ইকামত দিয়ে দেয়! আর কোরআন তিলাওয়াত করলে শুধু তামাসা চায়! এ জন্যে আমি নামাজের কাতারের একেবারে শেষের দিকে গিয়ে বসে থাকি এখন! সমাজে আমার সামনে প্রায় মানুষই মোটা হয়ে বসে থাকে, আমার প্রতি কাউকে সালাম দিতে আমি খুব একটা দেখিনি! তার মানে আমার প্রতি আপনার এলাকার কারো মূল্যায়ন বা তাদের চোখে আমাকে সম্মানের মাত্রা প্রায় শূন্যের কোঠায়! আমাকে আপনার এলাকার মানুষগুলো গুণীজন গিয়ে দূরে থাক, অবমূল্যায়িত মানুষ বা ইবলিশ শয়তানই ভাবে! এ অবস্থায় আপনার এলাকায় আমি কিভাবে দৃশ্যমান হয়ে আসবো বলেন!?
এখনো আপনার এলাকার বা আপনার বাড়ির বা আপনি যেখানে চাকুরী করেন, সেখানকার কাউকে যদি বলেন যে, আমাকে ৫০০ টাকা ধার দেন; আপনি কিন্তু একজনের কাছ থেকেও পাবেন বলে মনে হয় না! আবার আপনার এলাকার বা বাড়ির নিকটস্থ বাজার সমূহের দোকানদার ভাইদেরকে যদি বলেন যে ২০০ টাকার মাল বকেয়া দেন, হয়তো আপনাকে একজনও দিবে না! তার উপর আপনাকে সহজ পেয়ে তারা আপনারা উপর কাজের বোঝা বাড়িয়ে দেয়ার ধান্দা করে! আপনার উপর জুলুম করে, আবার তারা আপনি যাতে মানুষকে তা জানাতে না পারেন, সে কৌশলও করে! যখনই তারা আপনাকে কোন একটি বিষয় বুঝেন না মনে করে, তখনই আপনার এলাকার মানুষ বা দোকানদার গুলো আপনাকে ঠকিয়ে দেয় বা প্যাঁচে ফেলে বা ফেলতে চায় বা অপমানের দৃষ্টিপাত করে! এমতাবস্থায় আমরা কি ধরে নিতে পারি না, আপনার সম্মান বা মূল্যায়ন, আপনার এরিয়ায় হাতে গোনা ২/১ ব্যক্তি ছাড়া আর কারো কাছে নাই!? বরং তারা আপনাকে পাপী মানুষ বা ব্যর্থ মানুষ ভাবে!
এ জন্যেই শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে, যে দেশে গুণীজনের কদর নেই, সে দেশে গুণী জন জন্মাতে পারে না!
মূলত এ কারণেই আমরা আপনার এলাকায় আসতে পারছি না! বা দৃশ্যমান হতে পারছি না!
একটু ভেবে দেখুন, এ অবস্থা ও পরিস্থিতিতে আমরা যদি দৃশ্যমান হই বা আসি, তবে কি বিড়াল-কুকুরের মতো আপনাদের পায়ে পায়ে থাকবো!? আমাদের নামে কি, দু’ ডিসিমেল জমি রেজিস্ট্রি করা আছে যে, আমরা আমাদের জমিতে এসে সম্মানের সহিত ঘর-বাড়ি করে বসবাস করতে পারবো!? আর কথার কথা যদি সেভাবে থাকতোও, তাহলেও আমাদের সাথে মানুষদের যোগসূত্র কোথায় যে, আমরা মানুষদের সহযোহগিতা পাওয়ার একটা হকদার হবো!? অথবা আপনার সাথে কি আমাদের এমন কোন বৈধ ও আপনার এলাকার মানুষদের ভাবধারা ও চিন্তা-চেতনা অনুযায়ী বা ধর্ম কর্তৃক এমন কোন সম্মানজনক অনুমোদিত রিলেশন আছে যে, যার উপর ভিত্তি করে আমি ও আমরা আপনার নিকট আসতে পারি? বা দৃশ্যমান হতে পারি!? যেমন বিয়ে? এখন বিয়ের কথা শুনলেই মানুষদের ধারনা হচ্ছে, পরী সুন্দর! এবং এটা আমাদের খাছিয়ত, সে জন্য আমরা পরস্পর বিয়ে করতে চাই! অথচ আমাদের কারোরই এ ধরনের কোন ইচ্ছা বা আকাংখা নাই! আমরা চাই জিন হিসেবে দুনিয়াতে দৃশ্যমান হওয়ার একটা বৈধ উপায়! অন্যদিকে হুজুরদের ফতোয়া মতে জিনের সাথে মানুষের বিয়ে অবৈধ ও হারাম!
এখন কথা হচ্ছে, তাহলে কি আমরা আসবো না? বা দৃশ্যমান হবো না? হ্যাঁ, ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা অবশ্যই আসবো! অবশ্যই দৃশ্যমান হবো!
কিন্তু কথা হচ্ছে, তাহলে কিভাবে আসবো বা দৃশ্যমান হবো!
জ্বি, আমরা আসতেই চাই; এবং আমরা আসার জন্যই গত প্রায় ২৬টি বছর আপনার ও আপনার সমাজের সাথে থেকেছি! কোথাও যাইনি!
আপনি এবং আপনারা কি মনে করেন, মহান রব আমাদেরকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেননি! তাহলে আমরা কি শুধু বৃথাই আপনার বা আপনাদের সাথে থেকে আমাদের মূল্যবান জীবন বা মূল্যবান সময় শেষ করবো!? মহান রব বুঝি আমাদেরকে এতোই পরগাছা বা এতোই হালকা করে সৃজন করেছেন!? আর যাকে বা যাদেরকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, সে বা তারা কেমন করে এতো হালকা বা এতো ক্রিড়নক হতে পারে!? আবার সে বা তারা যদি মুমেন বা মুমেনা হয়, তাহলে তারা কেমন করে, অপর কাউকে বা অন্য কোন জাতিকে দিনের পর দিন এভাবে কষ্ট দিয়ে যায়!?
তাহলে বুঝতে শিখুন, ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমরা অবশ্যই আসবো!
চিন্তা করুন, আপনার বাড়ির মানুষগুলোর কাছে, আপনার সমাজের মানুষগুলোর কাছে, আপনার সকল পরিচিতজনদের কাছে, এমনকি ধর্মীয় ভাবে আপনাদের আলেম সমাজের কাছে; আমাদের মূল্যায়ন ও সম্মান এক ফোঁটাও নেই! অধিকন্তু আমাদেরকে সবাই শয়তান মনে করে! আপনার নিজ রক্তের আত্মীয়রাই আমাদেরকে শয়তান ভাবে! দুই একজন ছাত্র ছাড়া আপনার এলাকার আর কেউ আপনাকে সালাম দেয় না; আর আপনি সালাম দিলেও তাদের কেউ খুব একটা শুনিয়ে উত্তর দেয় না! মানে আপনার মূল্য আপনার এলাকায় পাই পয়সাও নাই! তাহলে আপনিই বলুন, এমন একটি পরিবেশ ও সমাজে আমরা কিভাবে আসবো!?
এমতাবস্থায় আপনি যদি আমাদের দৃশ্যমানতা চান, তাহলে আপনাকে সে রকম মন-মানসিকতাই আমাদেরকে প্রদর্শন করতে হবে! এখানে আপনাকে আমরা বলছি না যে, আপনি আপনার ভাই বা বাড়ির লোকদের সাথে বা আপনার পরিচিত আলেম সমাজের সাথে হিংসা বা শত্রুতা করেন! বা ঝগড়া-বিবাদ করেন!
যেহেতু আপনিও চান আমরা দৃশ্যমান হই, আবার আমরাও চাই আমরা দৃশমান হই, এছাড়া এ বিষয়ে আপনি ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত! তাহলে আপনি যদি সত্যিই চান যে, আমরা আসি বা দৃশ্যমান হই, তবে প্রথমত আপনাকে আমরা যাতে সম্মানের সাথে চারদিকের মানুষের গ্রহণযোগ্যতার মাধ্যমে আসতে পারি, এ জন্য আপনার এবং আমার মাঝে ইসলামিক ভাবে যাতে বিয়ে সম্পাদিত হতে পারে, এ জন্য বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য হবে এ ধরনের আন্তর্জাতিক ইসলামিক প্রতিষ্ঠান থেকে জিনের সাথে মানুষের বিয়ে জায়েজ, বা অন্তত আমার এবং আপনার মাঝে বিয়ে জায়েজ, এ ধরনের ফতোয়া আনয়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে! কারণ আমি বা আমরা মহিলা, আর আপনি পূরুষ; এমতাবস্থায় আমাদেরকে দুনিয়াতে ওপেনলি ভাবে কোন কাজ করতে হলে লাগবে মানুষের সার্বক্ষণিক সাথে থাকা ও তার বা তাদের সহযোগিতা!
যা বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়া, সম্মানজনক আর কোন সম্পর্ক আমার চোখে পড়ে না! আর আমরাও বিড়াল-কুকুরের মত মানুষের পায়ে পায়ে থাকতে বা বৈধ ও সম্মানজনক অধিকার ছাড়া স্বাভাবিকভাবে দুনিয়াতে কখনোই আসবো বলে মনে হয় না!
তাছাড়া আমরা মুমেনা, আমরা মুসলিমা, তাহলে আমাদেরকে আসতে হলে অবশ্যই ইসলামিক আইন অনুযায়ীই আসতে হবে! আমরাতো আর কাফের নই যে, আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ীই বা আমাদের যেমন খুশি তেমন ভাবেই আমরা আসতে পারবো!
ইতিপূর্বে জিনের সাথে মানুষের বিয়ে জায়েজ বিষয়ে আমরা একটা কন্টেন্ট লিখেছি! ইচ্ছে করলে আপনারা এখানে ক্লিক করে কন্টেন্টটি পড়তে পারেন! আমরা জিনের সাথে মানুষের বিয়ে অথবা অন্তত জনাব আরিফের সাথে জিন হিসেবে আমার বিয়ে জায়েজ মনে করি এবং আরিফ সাহেবও জায়েজ মনে করেন!
আর দ্বিতীয়ত আপনাকে এমন একটি এলাকায় হিজরত করতে হবে, যে এলাকায় গেলে এবং যে এলাকার মানুষগুলো আপনাকে এবং আমাদেরকে সম্মানের সহিত গ্রহন করবে! এবং এতে আপনার পরিবারের সদস্যদেরকেও রাজি থাকতে হবে! আর আপনার পরিবারের সদস্যরা যদি এতে রাজি না থাকে, বা এ বিষয়ে ষড়যন্ত্র করে, তাহলে সবাইকে বাদ দিয়ে আপনি একাই হিজরত করার জন্য চেষ্টা-ফিকির করতে হবে এবং সন্তুষ্টচিত্তে রাজি থাকতে হবে!
তাহলে আমাদেরকে দৃশ্যমান করতে আপনার প্রতি আমাদের দ্বিতীয় পরামর্শ হচ্ছে, আপনি উপযুক্ত ও সম্মানজনক পরিবেশ এবং আমাদের অনুকূল সমাজ খোঁজ করুন! আর সেখানে হিজরত করার জন্য চেষ্টা ফিকির চালিয়ে যান!
এভাবে আপনি যদি আসলেই আমাদেরকে চান এবং এ বিষয়ে যদি শতভাগ ত্যাগ স্বীকার করেন এবং হিজরত করার জন্য যদি শতভাগ চেষ্টা-ফিকির করেন, আর যদি তখন ব্যর্থও হন, তবে আমরা আপনাকে কথা দিচ্ছি যে, আমরা তখন জেহাদ করার মানসিকতা নিয়ে, আপনার বর্তমান এ প্লেসেই এবং এ অবস্থা ও এ পরিস্থিতিতেই, আপনার নিকট আগত হবো! এবং জেহাদ করার (প্রাণানন্তর প্রচেষ্টা) মাধ্যমে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমরা আমাদের উপরোক্ত উদ্দেশ্য সাধন করবো!
এবং সেক্ষেত্রে আপনি হবেন, আমাদের সুলতান! আল্লাহু তা’য়ালার রহমতে, তখন আমরা আপনাকে শতভাগ মেনে চলবো!
আমরা আশা করবো, আপনি আমাদের মনমতো হবেন এবং আপনি এক আল্লাহু তা’য়ালার জন্য দুনিয়ার সব কিছু ত্যাগ করতে পারবেন!
তাহলে ফাইনালি ভাবে আপনার উপরোক্ত প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা অবস্থা ও পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তখন আমরা অবশ্যই আপনার নিকট দৃশ্যমান হবো এবং উপরে উল্লেখিত আমাদের উদ্দেশ্য সাধন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবো! ও এতে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা আমরা সফলকাম হবো! তবে আপনাকে উপরের বর্ণনা অনুযায়ী, এ বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে!
এবং আমরা শতভাগ আশাবাদি, আল্লাহু তা’য়ালার রহমতে সময় হলেই আমরা আপনার নিকট দৃশ্যমান ভাবে চলে আসতে পারবো!
তাই আপনার প্রতি অনুরোধ, আপনি সে পর্যন্ত ধর্য ধরুন, আল্লাহু তা’য়ালার কাছে কায়মনোবাক্যে চাইতে থাকুন এবং এ বিষয়ে উপযুক্ত মোতাবেক চেষ্টা-ফিকির চালিয়ে যান!
মনে রাখবেন, আমরা যে আসবো বা বিশ্ববাসীর নিকট দৃশ্যমান হবো, আল্লাহু তা’য়ালার রহমতে এটা শতভাগ সত্য!
-ঃসমাপ্তঃ-
সমসম

0 Comments